ওয়াশিংটন: রাতে যখন চাঁদের দিকে তাকান, মনে হয় একেবারে চিরচেনা সেই গোলাপি আভা। কিন্তু বিজ্ঞানীরা কিন্তু বলছেন অন্য কথা। আমাদের একমাত্র প্রাকৃতিক উপগ্রহটি কিন্তু আগের মতো নেই। ধীরে ধীরে ছোট হয়ে যাচ্ছে সে! আর এই সঙ্কুচিত হওয়ার প্রমাণ মিলেছে চাঁদের বুকে হাজার হাজার নতুন ফাটলের আকারে।

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল এয়ার অ্যান্ড স্পেস মিউজিয়ামের সেন্টার ফর আর্থ অ্যান্ড প্ল্যানেটারি স্টাডিজের গবেষকরা এই চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন। তাদের গবেষণা বলছে, চাঁদের ভেতরের অংশ ধীরে ধীরে ঠান্ডা হচ্ছে। ফলে বাইরের অংশ সঙ্কুচিত হচ্ছে। ব্যাপারটা অনেকটা গরম লোহা ঠান্ডা হয়ে ছোট হয়ে যাওয়ার মতো।

এই সংকোচনের কারণেই চাঁদের মাটিতে প্রচণ্ড চাপ তৈরি হচ্ছে। তখন এক অংশ অন্য অংশের ওপর উঠে গিয়ে তৈরি হচ্ছে পাহাড়ের মতো উঁচু শৈলশিরা। বিজ্ঞানের ভাষায় যার নাম 'লোবেট স্কার্পস'।

আগে এসব শৈলশিরা শুধু চাঁদের উচ্চভূমিতেই দেখা গেলেও এবার প্রথমবারের মতো চাঁদের অন্ধকার সমতল অঞ্চল, যাকে 'লুনার মারিয়া' বলা হয়, সেখানেও পাওয়া গেছে একই ধরনের ফাটল। নতুন এই ফাটলগুলোর নাম দেওয়া হয়েছে 'স্মল মেয়ার রিজ'।

গবেষণায় মোট ১ হাজার ১১৪টি নতুন ফাটল চিহ্নিত করা হয়েছে। এখন চাঁদে এ ধরনের ফাটলের মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৬৩৪-এ। বিজ্ঞানীদের ধারণা, এসব ফাটলের গড় বয়স প্রায় ১২ কোটি ৪০ লাখ বছর।

আর্টেমিস মিশনের আগে বড় সতর্কতা

বিজ্ঞানী কোল নাইপাভার জানান, চাঁদ নিয়ে এখন খুব গুরুত্বপূর্ণ সময় চলছে। সামনে আসছে আর্টেমিস মিশন। মানুষ আবার চাঁদে যাবে। তাই চাঁদের ভূমিকম্প বা চন্দ্রকম্পের বিষয়টি জানা জরুরি। কারণ ভবিষ্যতে সেখানে কাজ করতে গেলে এই কম্পন বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

গবেষকরা বলছেন, চাঁদের ভেতরের গঠন, তাপমাত্রার পরিবর্তন ও ভূমিকম্পের ইতিহাস বোঝার জন্য এই নতুন তথ্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই চাঁদের এই সঙ্কুচিত হওয়া শুধু একটি বৈজ্ঞানিক কৌতূহল নয়, ভবিষ্যতের মহাকাশ অভিযানের জন্যও বড় এক বার্তা বহন করছে।

 

Walton Ads