রাশিয়ার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে অন্তত একজন নিহত এবং সাতজন আহত হয়েছেন। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শনিবার ভোরে শহরের বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় একটির পর একটি বিস্ফোরণ আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয় পুরো শহরজুড়ে।
কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো জানান, আহতদের মধ্যে ১৩ বছর বয়সী একটি শিশুও রয়েছে। চারজনকে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কিয়েভের সামরিক প্রশাসনের প্রধান তিমুর তকাচেঙ্কো জানান, রাজধানীর উপকণ্ঠে একাধিক স্থানে হামলা হয়। স্ভিয়াতোশিনস্কি জেলা থেকে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
কিয়েভের পূর্বদিকে ব্রোভারি শহরে দুই নারী আহত হন। আঞ্চলিক গভর্নর জানিয়েছেন, সেখানে আবাসিক এলাকায় “মিসাইল ও ড্রোন” আঘাত হানে।
এদিকে কিয়েভ সিটি সেন্টারের পশ্চিমাংশে একটি উঁচু ভবনের নিচতলায় আগুন ধরে যায়। শহরের কেন্দ্রীয় এলাকাতেও আরেকটি আগুন লাগে, তবে পরে নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
এর ঠিক কয়েকদিন আগেও একই ধরনের হামলায় কিয়েভে সাতজন নিহত হয়। অন্যদিকে রাশিয়ার রোস্তভ অঞ্চলেও তিনজনের মৃত্যুর খবর মিলেছে।
হামলার সময়টাকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে চলমান শান্তি আলোচনা। ইউক্রেনীয় প্রতিনিধিদল তখনই যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সংশোধিত মার্কিন শান্তি-প্রস্তাব নিয়ে বৈঠকের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। প্রস্তাবের প্রথম খসড়া মস্কোর দাবি ঘিরে “অতিরিক্ত পক্ষপাত” থাকার অভিযোগে সমালোচিত হয়।
জেনেভায় দীর্ঘ আলোচনার পর এতে বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়।
বৃহস্পতিবার রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আবারও জানান—ইউক্রেন সেনারা মস্কোর দাবিকৃত অঞ্চলগুলো থেকে সরে গেলে তবেই হামলা বন্ধ করা হবে। তিনি নিশ্চিত করেন, আগামী সপ্তাহের শুরুতে মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল মস্কো সফর করবে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এক ভিডিও বার্তায় বলেন, জেনেভায় যে বিষয়গুলোতে সমঝোতা হয়েছে, সেগুলোকে “শান্তির পথ ও নিরাপত্তা নিশ্চয়তা”র উপযোগী করতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের প্রতিনিধিরা আবারও বসবেন।
