রাশিয়ার ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়াতে এবার সরাসরি জাপানের দিকে তাকিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসান্ত জানিয়েছেন, তিনি জাপান সরকারকে রাশিয়া থেকে জ্বালানি আমদানি বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

ওয়াশিংটনে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলএবং জি-৭ ও জি-২০ অর্থমন্ত্রীদের বৈঠকের ফাঁকে জাপানের অর্থমন্ত্রী কাটসুনোবু কাতোর সঙ্গে আলোচনায় বসেন বেসান্ত। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ইস্যু ছাড়াও রাশিয়া থেকে জ্বালানি আমদানি বন্ধ করার বিষয়ে আমেরিকার প্রত্যাশা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বেসান্তের বক্তব্য অনুযায়ী, রাশিয়ার তেল কেনা বন্ধ করা হবে মস্কোর যুদ্ধ অর্থনীতিকে দুর্বল করার কৌশলের অংশ। অন্যদিকে, জাপানের অর্থমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন, জি-৭ দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে টোকিও ইউক্রেনে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজ চালিয়ে যাবে।

তবে বাস্তবে, জাপান এখনই রাশিয়ার সাখালিন প্রকল্প থেকে অপরিশোধিত তেল কেনা বন্ধ করছে না। কারণ, এই সরবরাহ জাপানের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ — যা দেশের গ্যাস আমদানির প্রায় ৯ শতাংশ।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র এর আগেও ভারতকে রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করার জন্য চাপ দিয়েছিল।

জাপানের প্রতিরক্ষা বিনিয়োগে নতুন মাত্রা

সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করতে জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সম্প্রতি মিতসুবিশি হেভি ইন্ডাস্ট্রিজের সঙ্গে দুটি বড় চুক্তি করেছে। এই চুক্তির আওতায় দূরপাল্লার সাবমেরিন এবং জাহাজ-বিধ্বংসী ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যাপক উৎপাদন শুরু হবে। দুটি প্রকল্পের মোট মূল্য প্রায় ১৮৩ মিলিয়ন ডলার।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই বিনিয়োগ জাপানের প্রতিরক্ষা কৌশলে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে, বিশেষ করে চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক প্রভাব এবং উত্তর কোরিয়ার হুমকি মোকাবিলায়।

গাজা যুদ্ধবিরতিতে জাপানের প্রশংসা

গাজায় যুদ্ধবিরতি এবং ইহুদিবাদী বন্দীদের মুক্তি পাওয়ায় টোকিও সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে। জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইওয়ায়া তাকেশি বলেছেন, “জাপান আন্তরিকভাবে এই মানবিক অগ্রগতি ও শান্তির প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানাচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, গাজার মানবিক সহায়তা, পুনর্গঠন এবং দ্রুত পুনরুদ্ধারে জাপান সক্রিয় ভূমিকা রাখতে চায়। টোকিওর মতে, এই সংকটের সমাধান কেবল কূটনৈতিক ও মানবিক প্রচেষ্টার মাধ্যমেই সম্ভব।

জাপানে জনসংখ্যা বদলের নতুন রেকর্ড

এক অভূতপূর্ব সামাজিক পরিবর্তনের মুখে পড়েছে জাপান। ২০২৪ সালে দেশটিতে বিদেশি পিতামাতার ঘরে জন্ম নেওয়া শিশুর সংখ্যা রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর ২০,০০০-এরও বেশি শিশু জন্মেছে এমন দম্পতিদের ঘরে, যাদের অন্তত একজন পিতা-মাতা বিদেশি। এই সংখ্যা এখন মোট জন্মের ৩ শতাংশেরও বেশি।

অন্যদিকে, জাপানি বাবা-মায়ের সন্তান জন্মহার ক্রমেই কমছে। বিশ্বের দ্রুততম বয়স্ক দেশগুলোর একটি জাপান এখন জনসংখ্যা স্থিতিশীল রাখতে হিমশিম খাচ্ছে। বর্তমানে দেশটির জনসংখ্যা প্রায় ১২৫ মিলিয়ন, যা ধরে রাখতে জন্মহার বাড়ানো এখন সরকারের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।

 

Walton Ads